লন্ডন থেকে হুকুম শুনতে চান না বলে অনেকে বিএনপি থেকে বেরিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ কে এম সেলিম ওসমান।
বৃহস্পতিবার রাতে বন্দর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে খান বাড়ি মোড়ে নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, লন্ডনি হুকুম শুনতে চান না, তাই অনেকেই কিন্তু বিএনপি থেকে বেরিয়ে গেছে। আমার এলাকায় যারা বিএনপি করেন, তারা অন্তত আমার এলাকায় শান্তিতে বসবাস করেন। আপনারা আমাকে দাওয়াত করেন, নির্বাচন করার জন্য। এমন কোনো মায়ের ছেলে নাই যে লন্ডন থেকে বসে আপনার ক্ষতি করবে।
তিনি বলেন, এই মুক্তিযোদ্ধার হাত, বড় শক্ত হাত। বাঘ যত বুড়াই হোক না কেন, থাবা দিলে কিন্তু উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।
নিজেকে কোনো দলের লোক নয় দাবি করে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী বলেন, আমি কোনো দলের লোক না, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কাজ করতে পেরেছি। আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমি জাতির পিতার আদর্শের একজন কর্মী। আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান উনিও জাতীয় পার্টি করতেন। তবে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেলে-পেলে নিয়ে ওইরাতেই তিনি চলে গিয়ে ছিলেন। কোথায় ছিলেন তখন, আজকের নব্য আওয়ামী লীগাররা।
তিনি বলেন, আসেন আমরা এক সাথে কাজ করি। আমরা আত্মসমালোচনা করলেই বুঝবো, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে কেন নৌকা আনতে পারি নাই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কিন্তু আওয়ামী লীগেরই নেতা ছিলো। ওই ওদের রক্ত যাদের মধ্যে আছে, তারাই এখন পর্যন্ত ঘর থেকে বের হন নাই। আমি আহ্বান করছি, বেরিয়ে আসেন। মানুষকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেন।
সেলিম ওসমান বলেন, আমরা সবাই এক সাথে কাজ করবো। বন্দরের উন্নয়ন আমরা করবোই। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বানিয়েই যেনো আমার মৃত্যু হয়। বন্দরকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক বেশি সাজাতে পারবো, আমার এই বিশ্বাস আছে। আওয়ামী লীগের কোন লোক ঘরে বসে থাকবেন না, একদিন আপনাদেরও জবাব দিতে হবে। দেশের জন্য কি আপনাদের কোন দায়িত্ব নাই?
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, আইন বিষয়ক সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খোকন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মৃধা, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া সাজনু, জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব কামাল হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, বন্দর উপজেলা যুবলীগ নেতা খান মাসুদ।