টঙ্গীতে উন্নয়নের গল্প শোনালেন আলেমরা

ইসলামে ভোট এক ধরনের সুপারিশ। সুপারিশ ভালো হলে তার সুফল জনগণ ভোগ করে। সুপারিশ যদি মন্দ হয় তবে তার কারণে অনিষ্ঠ সবকিছুর ভাগিদার সেই জনগণকে হতে হয়। ফলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটাররা যেন ঠিক মানুষটিকে বেছে নিতে পারেন সেদিকে পরিচালিত করার দায়িত্ব সমাজের ইমামদের রয়েছে।

রোববার টঙ্গীর সাদিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইসলাম প্রচার ও প্রসারে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় আলেমরা এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলেমবান্ধব, তিনি কোরআনবান্ধব। আলেম সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যখনই কথা হয়েছে তখনই তিনি সাড়া দিয়েছেন। তাঁর সাথে আলেমদের সাথে প্রায়শ বৈঠক হয়, উনাদের কথা শোনেন।

তিনি বলেন, কওমী মাদ্রাসার বড় দাবি বাস্তবায়ন করেছেন শেখ হাসিনা। অনেক ইসলামিক দল ক্ষমতায় ছিলো, যারা নিজেদের আলেম সমাজের বন্ধু বলে দাবি করে তারাও ছিলো, কেউ কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে, কাকরাইল মসজিদের কাজ, পাঁচ শতাধিক মডেল মসজিদের মতো প্রকল্পগুলো সুচারু রূপে সম্পাদনের বিষয়গুলো তুলে ধরে এই বক্তা বলেন, এই মসজিদ করে দিতে সৌদি বাদশা আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে করোনা মহামারী ও ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সকলে আর্থিক সমস্যায় পড়ে। সৌদি সেসময় পিছিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী সউদ্যোগের সেই কাজ সম্পাদনের ঘোষণা দেন। ১০হাজার কোটি টাকা ম্যানেজ করা কষ্টসাধ্য হলেও তিনি পিছিয়ে যাননি।
 
বিশ্ব ইজতেমার মাঠ নিয়ে নানা সমস্যা হয়েছিলো এবং সমাধান করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সে সময় কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। ইজতেমা মাঠে টয়লেটের সমস্যা ছিলো, ওজুখানা ঠিক ছিলো না। সেখানে ৩১টি টয়লেট বিল্ডিং করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেড করে দিতে চেয়েছিলেন, ইজতেমা কর্তৃপক্ষ রাজি হননি। ইজতেমার সময় টঙ্গীর মানুষ পানি পেতো না। সেই মাঠেই তাদের নিজেদের পানির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে টঙ্গীতে আর পানির সমস্যা হয় না।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোট দিয়ে আপনি যাকে নির্বাচিত করবেন তার কাছে আপনি আপনার পবিত্র আমানত গচ্ছিত রাখবেন, সেটার যেনো ক্ষতি না হয় খেয়াল রাখতে হবে।’ প্রতিপক্ষের প্রার্থীর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন. ভূমি দস্যুতার সঙ্গে যুক্ত যিনি, দুর্নীতির সঙ্গে, মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক কাউকে দায়িত্ব দেবেন কিনা খোঁজ নেবেন।

বিশেষ অতিথি মুফতি মাসউদ করীম বলেন, ভোট একটি সুপারিশ। সেটা ভালো হলে সেটার যেমন অংশী আপনি হবেন, সুপারিশ যদি মন্দ হয় তবে তার বোঝা যিনি সুপারিশ করেছেন তার ঘাড়ে বর্তায়। আমরা ইমাম, আমাদের পিছনে অসংখ্য জনগোষ্ঠী আছে। তারা যেনো ভোটের সুপারিশ ঠিকভাবে করতে পারে সেদিকে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।