উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে এবার নিজেরাই সোচ্চার হলেন এলাকাবাসী। আর এমন ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীতে। জেলাটির সেনবাগ খালের উপর সেতু নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্মাণ কাজই বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। জানিয়েছে, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কাজ করতে দেবেন না তারা।
পিলার স্থাপনে মাটির গভীরে ৪০ ফুট পাইলিং করার নিয়ম হলেও, মাত্র আট ফুট পাইলিং করেই কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুরে ১৩ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণে পিলার বসানো হবে ১৮টি। এসব পিলার বসাতে মাটির ৪০ ফুট গভীর থেকে পাইলিং হওয়ার কথা। কিন্তু, নির্মাণ শর্ত না মেনে পিলারের জন্য মাত্র আট ফুট পাইলিং করতে শুরু করে কাজের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি।
দরপত্র পেয়ে সেতুটি নির্মাণ করছে সেনবাগের মেসার্স এফ এ এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ সেতু নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি ৪০ ফুটের বদলে সাত থেকে আট ফুট গভীরে পিলারের পাইলিং হাতেনাতে ধরে ফেলে তারা।
শায়েস্তানগর-হজনী সড়কের প্রতিদিন চলাচল করে কয়েকশ' যানবাহন। সেতুটি নির্মাণ হলে বেগমগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের ভারি যানবাহনও এই পথে চলবে। দুর্বল পিলারের সেতু বেশিদিন টিকবে না বলে শঙ্কা স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এ ধরনের পিলার সেতুর ভার নিতে পারবে না। তাই তারা এটির নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেতু নির্মাণে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অখিল শিকারী । দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। জানান, তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ বলেন, অনিয়ম তদন্তে এরমধ্যে একটি কমিটি হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর দ্রুত তদন্ত শেষে দরপত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।