কুড়িয়ে পাওয়া ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দিলেন অটোচালক

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি ভ্যানিটি ব্যাগে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার পেয়েও এর প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অটোরিকশার চালক। গত বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়নের ভুঁইয়ার হাট এলাকায় স্বর্ণালঙ্কারসহ একটি ভ্যানিটি কুড়িয়ে পান অটোরিকশার চালক। 

ওই রিকশাচালকের নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের খোদেজাবাগ গ্রামের (বর্তমান ওমরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা।

জানা যায়, ঈদের দিন বুধবার বিকেলে আয়েশা বেগম নামে এক নারী স্বামীর বাড়ি লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ থেকে অটোরিকশা যোগে বাবার বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় আছলামপুর ইউনিয়নের ভুঁইয়ার হাটের দক্ষিণ পাশে এলে তার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ও দামি মালামালসহ রিকশা থেকে নিজের অজান্তেই পড়ে যায়। 

পরে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় অটোরিকশা চালক মো. মহিউদ্দিন ব্যাগটি রাস্তায় পরে থাকতে দেখে তুলে নিজের কাছে রেখে দেন।

ব্যাগের মালিক অনেক খোঁজাখুঁজি করে ব্যাগটি না পেয়ে ওই এলাকায় মাইকিং করে ব্যাগের সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। 

এ অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মহিউদ্দিন ব্যাগের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি মালামাল থাকা সত্ত্বেও ব্যাগটি স্থানীয় চেয়ারম্যান একেএম সিরাজুল ইসলামের কাছে জমা দেন। 

চেয়ারম্যান বিষয়টি রমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি লোক পাঠিয়ে ব্যাগের মালিক আয়েশা বেগমকে ব্যাগের সন্ধান নিশ্চিত করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তার কার্যালয়ে এসে আয়েশা বেগম আছলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ব্যাগটি বুঝে নেন এবং খুশি হয়ে মহিউদ্দিনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার দেন। 

আরও পড়ুন: পুরান ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য সরেনি, অভিযোগ এলাকাবাসীর


আছলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, মহিউদ্দিন ব্যাগটি ফিরিয়ে দিয়েছে, এটা সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ। তার মতো সৎ লোক আমার এলাকার বাসিন্দা, এটি নিয়ে আমি গর্বিত।

স্বর্ণালঙ্কারসহ নিজের ব্যাগ বুঝে পেয়ে আয়েশা বেগম বলেন, মহিউদ্দিন ও চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মতো ভালো লোকের কারণে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই আমি আমার ব্যাগটি বুঝে পেয়েছি। এ জন্য আমি অনেক খুশি।

মহিউদ্দিনের মতো লোকেরা হাজার বছর বেঁচে থাকুক, আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করি। 

একাত্তর/এসি