কোরবানির হাজার খানেক চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় কয়েক হাজার পশুর চামড়া নষ্ট হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও লবন সংকটের কারণে কোরবানির পশুর এ চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার ফলে এবারেও কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে চামড়াখাতে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রায় ২শ’ বছরের পুরাতন বৃহত্তর সিলেট বিভাগের চামড়ার বড় ব্যবসা কেন্দ্র বালিকান্দি। কোরবানির চামড়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়ার মজুরি ও লবন দিয়ে যে টাকা ব্যয় হয় তাতে লোকসানের আশংকায় কাঁচা চামড়া ক্রয় করতে আগ্রহী হননি তারা।

জেলা প্রশাসন কোরবানির চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করে নানাভাবে উৎসাহ দেন। সেই সাথে তাদের সংগ্রহ করা চামড়া ন্যায্য-দামে ঢাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এতে জেলার অর্ধশতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে চামড়া ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের শুরু থেকেই সংরক্ষণে সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকা এবং লবন ও জিলানী (চামড়া থেকে মাংস পরিষ্কার করার লোক) শ্রমিক সংকট এবং গরমে ব্যাপকভাবে চামড়া পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী তাদের সংগ্রহ করা শত শত পিচ গরু ও খাসির চামড়া নদীতে ফেলে দিচ্ছেন। মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান মনে করেন, সিন্ডিকেটের কারণে সম্ভবনাময় চামড়ার ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

মৌলভীবাজারের বালকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত আলী বলেন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের অনুরোধে এ বছর সামান্য চামড়া ক্রয় করেছি। লবন সংকটের কারণে প্রায় ৫শ’ চামড়া নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মেহদী হাসান জানান, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য জন-প্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল অফিসারদের নিয়ে মৌলভীবাজারে ট্রিম ওর্য়াক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরলো সাইদুর

চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় অর্ধ-লাখ পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এগুলো আগে থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা করা উচিত ছিলো।


একাত্তর/আরএ