অনুকূল আবহাওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুরু হয়েছে সংগ্রহও। তবে কৃষকরা বলছেন, ফলন ভালো হলেও ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম ধান কাটতে হচ্ছে।

এ ছাড়া অনেক জায়গায় ধানের ভালো দাম পাওয়া গেলেও কিছু কিছু জায়গায় তা মিলছে না। অতিরিক্ত গরমে ধান কাটাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বোরো ধান হয় শুষ্ক মৌসুমে। হেমন্তকালের শুরু থেকে গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এর সময়কাল ধরা হয়। তীব্র লবণাক্ত জমিতেও বোরোর ভালো উৎপাদন হতে দেখা যায়।

মৌলভীবাজারে ছোট-বড় তিনটি হাওরসহ জেলার বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে এরইমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।

এ অঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে, দামের ব্যাপারে শঙ্কাও জানিয়েছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, প্রায় প্রতিবছরই ফসল ঘরে তোলার পর ধানের দাম কমে যায়। এবারও তেমন হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তারা।

অন্যদিকে ‘শস্যভাণ্ডার’ খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তীব্র গরমে ধান কাটতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।

paddy1

চলতি মৌসুমে তাড়াশ উপজেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২২ হাজার ৪৯৩ হেক্টর। তবে চাষ হয়েছে, ২২ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে।

দুই জেলার কৃষি কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, সরকারিভাবে প্রণোদনাসহ সময়মতো সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। সামনে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হলে দামও কিছুটা বাড়বে বলে দাবি তাদের।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বোরো উৎপাদনের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বোরো মৌসুমে দুই কোটি সাত লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। যা ছিলো আগের অর্থবছরের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি।

গত ২২ এপ্রিল কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ বলেছেন, কৃষকদের বোরো চাষে উৎসাহিত করতে এবার ২১৫ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

যার ফলে চলতি বছর সারা দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে উচ্চ উৎপাদনশীল হাইব্রিড ধানের চাষ। বোরোতে এবার ২ কোটি ২২ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এছাড়া কৃষক, ধান বিজ্ঞানী ও কৃষি কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার সমন্বয়ে দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে ধানের উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

paddy

একদল গবেষক ২০৫০ সালের মধ্যে আনুমানিক জনসংখ্যা হিসাব করে, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ, বার্ষিক ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলবায়ুর অবস্থা মূল্যায়ন করে ‘বাংলাদেশের জন্য ধান ভিশন: ২০৫০’ প্রস্তুত করেছেন।

গবেষকরা বলেছেন, জেনেটিক গেইন বৃদ্ধি, অনাবাদি জমি চাষ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে প্রধান এই খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।