গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকায়। জলাবদ্ধতা মুক্তির প্রকল্পে খাল সংস্কার হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে। তবু জলাবদ্ধ হয়ে আছে, মেহেদীবাগ, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর ও আগ্রাবাদ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
এদিকে বৃষ্টির কারণে নগরীর পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের সতর্কতা দেয়া হলেও কাউকে সরতে দেখা যাচ্ছে না। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে নগরীতে। বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় ১৫৩.৬ মিলিমিটার। টানা বৃষ্টিতে নগরের মেহেদীবাগ, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
এরপরও বৃষ্টির মধ্যে সকালে কর্মস্থল ও স্কুল-কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে সকালে গণপরিবহন কম থাকায় ভোগান্তি বেশি হয়েছে।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ, চসিক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত এই চার প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৬০-৮০ শতাংশ।
নগরের ৩৬টি খাল খননের মধ্যে ২১ খালের কাজ হয়েছে এছাড়া ১২টি খালের মুখে রেগুলেটর ও পাম্প হাউসের জায়গায় চারটি খালের মুখে কাজ শেষ হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্প কাজ অব্যাহত থাকায় আগের চেয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমেছে। তবে অপচনশীল বর্জ্য পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
আর নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেছেন, নগরীতে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর মালিকানায় যেসব ব্যক্তি ও সেবা সংস্থা আছে তাদেরকে জবাবদিহিতার জায়গায় আনা দরকার। না হলে পাহাড় ধসে মৃত্যুর শঙ্কা থাকবেই। নগরের বাসিন্দারা আরও জানান, মূলত নগরীর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের জন্যে দায়ী মানুষের অসচেতনতা এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অভাব।
বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত ফেনী, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
বন্যা ও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত এশিয়ার চার দেশ, বহু প্রাণহানি 