ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪০ উপজেলার ১০ হাজার ৬০৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন নির্বাচন অফিস থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয় এবং দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যায়। তবে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বুধবার, অর্থাৎ ভোটের দিন সকালে।
আর উপজেলা ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে চার ধাপে। প্রথম ধাপে ১৪০টি উপজেলায় ভোট বুধবার। এরি মধ্যে প্রথম ধাপে পাঁচ উপজেলার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম ধাপের ভোটে ১৪০ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী। যাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বুধবার।
এদিন সকাল থেকেই বরিশালের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয় ভোটের সরঞ্জাম। সদর উপজেলা চত্বর থেকে ৬৮ টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার বাদে বাকি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আমীর খসরু গাজী।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুর উপজেলার ভোট হচ্ছে প্রথম ধাপে। সেখানেও ব্যালট পেপার বাদে বাকি সব সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলায় বান্দরবানের রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়িতে ভোট হবে পরে।
নারায়ণগঞ্জে দুপুরের ভেতর পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটের সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। যশোরের দুই উপজেলায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানোর পর ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
নদী বিধৌত জেলা চাঁদপুরে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে কোস্ট গার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটির স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট তাকিউল আহসান। এছাড়া ঝিনাইদহ, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ভোটের সরঞ্জাম।
এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সহনীয় আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার বন্ধ করতে কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের দিন যেনো কোনো অনিয়ম না হয়, সেজন্য প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভোট প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের থেকে উপজেলা নির্বাচনের ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে।