দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শিকদার মোস্তফা কামাল (৪৮) নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা নেওয়ার তার মৃত্যু হয় বলে নিহতের স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশি এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা শিকদার মোস্তফা কামালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পরই অপর এক হামলায় প্রতিপক্ষের আরও দু’জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত শিকদার মোস্তফা কামাল উপজেলার উত্তর মঙ্গলহাটা গ্রামের আকরাম শিকদারের ছেলে। তিনি উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শুক্রবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার মঙ্গল হাটা গ্রামে আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোস্তফা কামালের প্রতিপক্ষের মো. ফয়সাল শেখ (৩০) ও পলাশ মোল্যা (৪০) নামের দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া পৌরসভার কুন্দশি এলাকার একটি বাড়িতে শালিস বৈঠকে যান মোস্তফা কামাল। শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুন্দশি-মঙ্গলহাটা গ্রামীণ রাস্তার পাশে সমির শিকদারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোস্তফা কামালকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বুক ও পিঠে গুলিবিদ্ধ মোস্তফা কামালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সুব্রত কুমার কুন্ডু বলেন, ‘মোস্তফা কামালের বুক ও পিঠ গুলিতে জখম হয়। আহত অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়।’
মোস্তফা কামালের ভাই রেজাউল শিকদার জানান, তার বুকে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ঢাকা নেওয়ার পথে পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় হয়।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, ‘দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিকদার মোস্তফা কামালকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যুর খবর জেনেছি। এর আগে গুলির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।