রূপগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত খামারীরা

আসন্ন পবিত্র কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ছোটবড় প্রায় ২ হাজার খামারী নিজেদের খামারে কোরবানীর পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশী গরু, ছাগল, মহিষ ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। 

সরাসরি খামার থেকে বেচাকেনা ছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হয়েছে এসব গবাদী পশু। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় গোখাদ্যের দাম কিছুটা বেশী বলে গরুর দামও একটু চড়া। দেশের বাইরে থেকে যেনো কোন প্রকার গবাদী পশু দেশে প্রবেশ না করে সেদিকে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় খামারীরা। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ঈদকে সামনে রেখে রূপগঞ্জে রহিমা মোজাফ্ফর ক্যাটেল ফার্ম, নাবিল এগ্রো ফার্ম, সওদাগর ক্যাটেল ফার্মসহ ছোট বড় কমপক্ষে ২ হাজার খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৮৭ টি পশু। এরমধ্যে দেশীয় জাতের ছাড়াও রয়েছে শাহী ওয়াল, পাকিস্তানী রাতি, গীর, অলস্টিল ফিজিয়ান, আমেরিকার ডেক্সটারসহ বিভিন্ন জাতের ৮ হাজার ১৮১টি গরু। ছাগল, মহিষ ও  ভেড়া রয়েছে মোট ৭ হাজার ৭০৬টি।

পুরো উপজেলার  কোরবানীর পশুর চাহিদা ১৫ হাজার ৫০০, ফলে এবার উপজেলার চাহিদার চেয়েও এখানে বেশি প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানীর পশু।

প্রতিদিন সকালে থেকে রাত পর্যন্ত পশুদের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারে নিয়োজিত লোকজন। গরু দ্রুত মোটা তাজা করতে হরমোন ইনজেকশন ও রাসায়নিক প্রাণঘাতী ষ্ট্রয়েড জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশুদের মোটাতাজা করতে কাঁচা ঘাস, খৈল, চালের ভুষি, গমের ভূষি, ছোলা, সয়াবিন ও খড় খাওয়ায়ে লালন পালন করছেন বলে জানান তারা।

cow2
রহিমা মোজাফ্ফর ক্যাটেল ফার্মের ম্যানেজার আব্দুল গাফ্ফার বলেন, এবছর গো-খাদ্যসহ সব ধরনের দ্রব্য সামগ্রীর দাম বেশি হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় পশু পালনে খরচ অনেকটা বেশী পড়ছে, সেজন্য দামও কিছুটা বেশী চাওয়া হচ্ছে। সরাসরি খামার ছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে এখানকার খামার গুলোতে পশু বেচাকেনা হচ্ছে।
   
সিনথিয়া ক্যাটেল ফার্মের মালিক পনির হোসেন বলেন, দেশের বাইরে থেকে যদি কোরবানীর জন্য পশু আমদানী করা হয় তবে এখানকার খামারীরা লাভের মুখ না দেখে লোকসান গুনতে হবে। এজন্য গো-খাদ্যসহ সকল দ্রব্য-সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ও দেশের বাইরে থেকে যেন কোন প্রকার পশু দেশে আসতে না পারে সেই বিষয়ে ব্যাবস্থা নিতে তারা সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

cow3

এব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রিগান মোল্লা বলেন, এবছর রূপগঞ্জের চাহিদার চেয়ে বেশী কোরবানীর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গরু মোটা-তাজা করতে কোন প্রকার ষ্ট্রয়েড জাতীয় ঔষধ যাতে গবাদী পশুর মধ্যে প্রয়োগ না করতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর নজরদারীতে রেখেছে খামারিদের।