নিখোঁজের দুই মাস পর ঢাকার আশুলিয়া থেকে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার এক নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আহম্মদ মুঈদ জানান, গত ৩১ আগস্ট রেহেনা পারভীন (৩৭) নিখোঁজের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রেহেনার মা আইরিন আক্তার। পরে তিনি মামলা করেন।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন ইন্টারপোলের মাধ্যমে নিখোঁজ রেহেনা পারভীনের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সহায়তা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে বার্তা পাঠায়।
সংস্থাটির দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ কাজ শুরু করে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানার নয়ারহাট মৌনদিয়া চৌরাপাড়া এলাকায় ননদ পাপিয়া আক্তারের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের মাটি খুঁড়ে রেহেনার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীন স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকতো রেহেনা পারভীনের। এরই মধ্যে রেহেনা বাংলাদেশে তার নিজের নামে জমি কিনে বাড়ি বানালে পারিবারিক বিরোধ চরমে ওঠে।
গত ৬ জুন রেহেনা পারভীন তার বড় মেয়ে আহাদ নূরকে (১৩) নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং তার মেয়েকে ময়মনসিংহ শহরের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করান। ২৯ জুন তার স্বামী আওলাদ হোসেন বাংলাদেশে এসে স্ত্রীর সঙ্গে ফের বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
বিরোধের এক পর্যায়ে গত ৩ জুলাই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যদের সহযোগিতায় কৌশলে রেহেনাকে নবাবগঞ্জ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রেহেনাকে অপহরণের পর আওলাদের বোন পাপিয়া আক্তারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাপিয়ার বাড়ির আঙিনায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়। হত্যার পর গত ১৩ জুলাই আওলাদ হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।