শরণখোলায় আমন চাষীদের মাঝে হাহাকার

বাগেরহাটের শরণখোলায় আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে ভাসছে পানিতে। রোপণের সময় হলেও বীজ নেই চাষিদের হাতে। এ ছাড়া নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে বাজারেও বীজধান পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে চাষিদের মাঝে এখন দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার।

উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের চাষি মোঃ নুরুল ফকির, ছালাম মৃধা, ইদ্রিস তালুকদার ও শরৎ মণ্ডল জানান, সাম্প্রতিক বর্ষার জলাবদ্ধতায় তাদের চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ৮০ শতাংশ আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। 

ধান চাষের সময় হলেও বীজের দেখা নেই। প্রায় ক্ষেতের বীজই পচে গিয়ে পানিতে ভাসছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করার বীজ ধান মিলছেনা কোথাও। এ বছর চাষের জমি ফাকা থাকার সম্ভাবনাই বেশী। 

উপজেলার  রায়েন্দা বাজারের আমন বীজধানের ডিলার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বীজধান বিক্রির একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। সে সময়ের মধ্যে তারা চাষিদের মাঝে বিক্রি করে থাকেন। গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ৪৫ টন বীজ ধান বিক্রি হয়ে গেছে। বীজধানের মধ্যে রয়েছে বিআর -১১, বিআর-৫২ ও বিআর-২২ জাতের ধান। 

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীর গলাচিপায় গাঁজাসহ আটক ২

শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন জানান, শরণখোলায় সম্প্রতি অতিবর্ষণের ফলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। উপজেলার খোন্তাকাটা, ধানসাগর, রায়েন্দা, সাউথখালী ইউনিয়নের ১১ হাজার ২০৯ জন চাষি মোট ৭৩০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা করেছিলেন কিন্ত ৩৬৫ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। 

স্থানীয় ডিলারদের কাছে বর্তমানে বীজ ধানের মজুদ নেই। গত ৩০ জুলাই তাদের বীজধান বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। তবে, চাষিদের সংকটের কথা বিবেচনা করে ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ ধান সংগ্রহ করে চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি। 


একাত্তর/এসজে