শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জোরপূর্বক জমি দখল ও বসতবাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার বিকেলে উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রোকনুজ্জামান রাসেল।
এসময় রাসেল বলেন, আমার মা আমাদের বাড়ির বিপরীত পাশে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে সেই জমি থেকে ২০ শতাংশ জমি একটি মাদ্রাসায় ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসা আমার বাবা নূরনবী ও চাচা নূরুল হক পরিচালনা করে আসছিলেন। ২ বছর আগে এই মাদ্রাসায় একটি ইসলামী সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং চাচা নুরুল হক বড় অংকের টাকার অনুদান সংগ্রহ করেন। মাদ্রাসা কমিটি যখন এই অনুদানের টাকা তার কাছে দাবি করে তখন নূরুল হক পরামর্শ দেন যে, মাদ্রাসার ওয়াকফ দলিল বাতিল করে তার নিজ নামে দলিল করে দিতে হবে। তাহলে অনুদানের টাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা আসবে।
তিনি আরও বলেন, পরে এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে আমার মা মাদ্রাসার ওয়াকফ করা দলিল বাতিল করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। এরইমধ্যে আমার চাচা নূরুল হকের নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি বেসরকারি টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। ওই খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, তিনি প্রতারণার মাধ্যমে অনেক নিরীহ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এরপর আমরা মাদ্রাসার জমি তার নামে করে দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তিনি আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ভয়ভীতি দেখান এবং আমাদের বাড়িতে হামলা চালান।
ঘটনার দিন আমার বাবা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রোকনুজ্জামান রাসেল বলেন, তারা আমাদের ক্রয় করা জমিসহ মাদ্রাসার জমি জবরদখলের পায়তারা করে এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ও মাদ্রাসা ঘর ভাঙচুর করে। মূলত আমরা এই এলাকার ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে চাই। কিন্তু তিনি কোনো দলিল ছাড়া আমাদের দখলের চেষ্টা করছেন। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আদালতে ১৪৪ ধারার জন্য আবেদন করি এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আমার চাচা বিভিন্নভাবে আমার পরিবার ও আমাকে মেরে ফেলা এবং পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত মহড়া দিচ্ছেন। আমরা আমাদের জান ও মালের নিরাপত্তা চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমি ওই জমি চার লাখ টাকায় কিনে নিয়েছি। কিন্তু আমার ভাবী ওই জমি আমার নামে লিখে না দিয়ে মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে আদালত ওই ওয়াকফ দলিল বাতিলের আদেশ দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যেহেতু হিলফুল ফুজুল নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি আমি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছি, তাই আমার ক্রয় করা জমি আমার নামে লিখে দিতে হবে।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কোনো পক্ষই জানায়নি। বিবাদমান পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।