নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেপরোয়া গতির একটি মিনি ট্রাক কেড়ে নিলো ফাহিম নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর প্রাণ। ফাহিম উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের এমদাদুল হকের পুত্র।
বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কের কৃষ্ণেরচর এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা ঢাকায় কাজ করেন এবং মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে বিছানায় পড়ে আছেন। তাই শিশু ফাহিম বেশিরভাগ সময়ই বাহিরে খেলাধুলা করে এবং বাজারে রাত পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করে। বুধবার রাতেও স্থানীয় কয়েকজন শিশুর সাথে খেলাধুলা শেষ করে বাড়ি ফিরছিলো শিশু ফাহিম।
তখন সড়ক পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির বালুবাহী একটি মিনি ড্রাম ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহত শিশুকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক ট্রাক চালক। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ্ নুর এ আলম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে থেকে ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করি। তবে ঘাতক চালক এখনো পলাতক রয়েছে তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, খনিজ সম্পদে ভরপুর সোমেশ্বরী নদীর সিলিকন বালুর চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। প্রতিবছরই জেলা প্রশাসক নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য পাঁচটি বালু মহলে ইজারা দিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: ২০ হাজার আফগান শরণার্থী নেবে যুক্তরাজ্য
বিগত ১১ বছর ধরে নদী থেকে উত্তোলিত বালু ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে আসছে সারাদেশে। প্রায় সময়ই বালু বহনকারী এ সকল ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শিশুরা।
গত দু'বছরে বালুবাহী ট্রাকের নিচে পড়ে মৃত্যুর পরিমাণ বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এ সকল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন লড়ি, মিনি ড্রাম ট্রাক। এছাড়াও অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনা তেমনি নিঃস্ব হচ্ছে শতশত পরিবার।
গত দুই বছর ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক দফা আন্দোলন করলেও এখন পর্যন্ত সুফল পায়নি স্থানীয়রা। তাছাড়া প্রশাসন থেকেও কয়েক দফা আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
একাত্তর/আরবিএস