বগুড়ায় রোগী ও স্বজনদের মারপিটের অভিযোগ ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ইন্টার্নি চিকিৎসকরা রোগী, রোগীর স্বামী ও এক সাব ইন্সপেক্টর সহ তিন পুলিশকে মারধর করেছে। এমনকি দুইমাসের  অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হওয়া আছলাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নন্দগ্রামের বাসিন্দা।

তিনি বলেন, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জয়নব বেগম গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একই দিন তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শনিবার রাতে তার স্ত্রীর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তিনি চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। 

কিন্তু তার কথা হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকই আমলে নিচ্ছিলেন না। এদিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তিনি আবারও চিকিৎসকদের কাছে ছুটে যান। এক পর্যায়ে চিকিৎসকের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর জের ধরেই চিকিৎসকরা তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে করোনা ও উপসর্গে ১২ মৃত্যু

"এক পর্যায়ে আমাকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে আমার অসুস্থ স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে আসলে তার পেটে লাথি মারেন এক চিকিৎসক।"

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রাকিবুল ইসলাম বলেন, "আমি খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি আছলাম ও তার স্ত্রীকে মারধর করা হচ্ছে। আমি তাদের বাঁচাতে গেলে চিকিৎসকরা আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা এটিএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল শরীফ ও অরূপকেও মারধর করেন চিকিৎসকরা।"

শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, "চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হট্টগোল হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারাও হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি, শুধু ধস্তাধস্তি হয়েছে।"

তিনি বলেন, 'অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার কোনো ঘটনা ঘটেনি।' তবে এ বিষয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। 

একাত্তর/এসজে