কুমিল্লায় একটি বাসা থেকে মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের উত্তর কালিয়াজুরী নেলী কটেজ বাড়ির হাতেগড়ি আনন্দ পাঠশালা কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া বাসা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- কুমিল্লার আদালতের হিসাবরক্ষক প্রয়াত হাজী নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা ও মেয়ে সুমাইয়া আফরিন রিংকি। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে পাঞ্জাবি পাজামা ও মাথায় টুপি পরা অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করে। বেলা ১১টা ২২ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। আবারও বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন তিনি। সিসিটিভির ফুটেজে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে বের হতে দেখা যায়নি।
পরে রাত সাড়ে ১১টার টিকে বাড়ির বড় ছেলে ঢাকা থেকে বাসায় এসে দরজা খোলা পান । মা ও তার ছোট বোনকে খাটে শুয়ে থাকতে দেখে তাদের আর ডেকে তুলার চেষ্টা করেননি তিনি। তার ছোট ভাই ঢাকা থেকে আসার অপেক্ষা করেন । তিনি আসার পর অনেক সময় পার হলেও মা ও বোনকে নড়াচড়া করতে না দেখে তাদের ডাকতে যান এবং তখন তাদের মৃত দেখতে পান বলে জানা যায়।
ওই বাসায় তারা ভাড়া থাকতেন। তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি নগরীর শুভপুর এলাকায়।
বাড়ির মালিক আনিছুল ইসলাম রানা জানিয়েছেন, সাড়ে তিন থেকে চার বছর আগে কুমিল্লার আদালতের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাড়িটি ভাড়া নেন। গত বছর তার মৃত্যুর পর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (৫০), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া আফরিন (২৪) ও তার দুই ছেলে বাড়িটিতে থাকছেন।
তিনি আরও জানান, তারা অন্য কারো সাথে তেমন কথা বলতেন না। গতকাল রাতে তার দুই ছেলে ঢাকা থেকে বাসায় আসলে তারা ঘরের দরজা খোলা দেখে। এই সময় তারা ভাবে তাদের মা ও বোন ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু বাসায় ঢুকার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেলে জাগাতে গিয়ে দেখেন তারা নড়ছে না। পরে ৯৯৯ এ কল পেয়ে সোমবার ভোরবেলা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং কুমিল্লা মেডিকেল এর মর্গে পাঠায়।
টিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে একজন ব্যক্তি রোববার দিনের বেলায় তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করেছিলো। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ দুটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে