পটুয়াখালীর টাউন জৈনকাঠী এলাকার চাঞ্চল্যকর তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আলামিন ওরফে কসাই আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার র্যাবের সহায়তায় তাকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। এরপর শনিবার পটুয়াখালী এনে আদালতে সোপর্দ করলে সেখান থেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে নিখোঁজ হন পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কালাম হাওলদারের ছেলে দুই সন্তানের জনক তুহিন হাওলাদার (৩০)। ২৪ ঘণ্টা পর লোহালিয়া সেতু সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তুহিনের মরদেহ।
নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তুহিনের পরিবারকে একই এলাকার চিহ্নিত অপরাধী মো: আলামিন ওরফে কসাই আলামিন জানায়, ডিবি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সে ও তুহিন নদীতে ঝাঁপ দেয়। আলামিন সাঁতরে ওপারে উঠলেও তুহিন করতে পারিনি। পরের ডিবি অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয় ওইদিন ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশের কোনো অভিযান ছিলো না বা কেউ যায়নি।
এ অবস্থায় তুহিনের মৃত্যুতে কসাই আলামিনের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ এনে তার বাবা কালাম হাওলাদার বাদী হয়ে কসাই আলামিনসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন- সিডি আলামিন ও ওবায়দুল। এই ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিলেন।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত টিম নিশ্চিত হন প্রধান আসামি কসাই আলামিন সুনামগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থান করছেন। সেখানকার র্যাবের সহায়তায় পটুয়াখালী সদর থানার তদন্ত টিম গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জন্য আসামি আলামিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে আদালতে।
গ্রেপ্তার কসাই আলামিন একজন চিহ্নিত অপরাধী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শহরের সবুজবাগের মাহবুব হত্যার প্রধান আসামি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।