অপমান সইতে না পেরে রিকশাচালকের আত্মহত্যা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় রিকশা চুরির দায়ে শালিস বৈঠকে মারধরের ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে মো. হোসেন (২৭)  নামের এক রিকশা চালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। 

শনিবার (২৮ আগস্ট) রাতে লালমোহনের পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের শেখের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লালমোহন থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল কবীরসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৯ জনকে আসামী করে রবিবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কোন আসামীকে আটক করা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, লালমোহন পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সিরাজের গ্যারেজের একটি ব্যাটারী চালিত রিকশা গত ৪ দিন আগে চুরির অভিযোগ ওঠে হোসেনের বিরুদ্ধে। পরে ওই রিকশা বোরহানউদ্দিনের শান্তিরহাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। রিকশাটি হোসেন সেখানে বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা অগ্রিম নেন। বিষয়টি জেনে রিকশার মূল মালিক সিরাজ ওই ৭ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে রিকশাটি নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে রিকশা মালিক সিরাজ স্থানীয় আকতার দালালকে সঙ্গে নিয়ে হোসেনকে ডেকে এনে বেধড়ক মারধোর করেন। 

পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল কবীরের অফিসে পুনরায় শালিশ বৈঠক হয়। সেখানে চুরির অপরাধে হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং হোসেনের মা'কে ডেকে এনে ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বলেন কাউন্সিলর। শালিসে দ্বিতীয় দফা মারা হয় হোসেনকে। 

রাতে হোসেন বাসায় গিয়ে রাতের খাওয়া শেষ করে ঘরের বাহিরে যান। পরে বাড়ির পাশে আম গাছের সাথে হোসেনকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। 

হোসেনকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হোসেন ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত হোসেন পেশাদার কোন চোর নয়। অভাবেব তাড়নায় তিনি চুরি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

মারধর ও জরিমানা করায় লোকলজ্জায় হোসেন আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে রাতেই লালমোহন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় হোসেনের মা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে সিরাজ, আকতার দালাল ও কাউন্সিলর সাইফুল কবীরকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর সাইফুল কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল তাকে ফাঁসাতে ঘটনার সাথে তার নাম জড়াচ্ছে। শালিসে হোসেনকে মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন কাউন্সিলর।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, এ ঘটনায় থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।


একাত্তর/এআর