চট্টগ্রামে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলেও চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে গতবছরকে অতিক্রম করেছে এবং দুজন মারা গেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক নয়।
চট্টগ্রামে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭ জন। আর এবছরের প্রথম নয় মাসে ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ জন। যা গত বছরের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।
এনিয়ে সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গুর পরীক্ষা বিনামূল্যে করতে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৮ হাজার কিট পাঠানো হয়েছে।
ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রস্তুতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির বলেন, করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আলাদা ইউনিট স্থাপন করে ৫০ শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: করোনায় একদিনে মৃত্যু ৬৫, নতুন রোগী দুই হাজার ৭১০
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, মশক নিধনে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে চলমান রয়েছে ক্রাশ কার্যক্রম। মশক নিধনে কার্যকর ওষুধ প্রযোগেও কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।
জেলা কীটতত্ত্ববিদ এন্তেজার ফেরদৌস বলেন, নগরে মশার লার্ভা ধ্বংসের ক্রাশ প্রোগ্রাম এবং মশার ওষুধ ছিটানো হয় দিনের বেলায়। কিন্তু মশার ওষুধ ছিটানোর উপযুক্ত সময় হলো সন্ধ্যা। এসময় ওষুধ ছিটালে অধিক মশা মারা যায়। দিনের বেলা এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তেমন কোনো সুফল আসবে না।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা টিম নগরীর ১৬টি স্থানে ডেঙ্গুর লার্ভার সন্ধান পেয়েছে।
একাত্তর/আরএইচ