মেহেদী দিয়ে হাতে ফোসকা, কোম্পানিকে লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের দোকান থেকে মেহেদী কিনে হাত রাঙানোর পরের দিন দুই হাত ফুলে যায় ও ফোস্কা পড়ে এক নারীর। চিকিৎসকের পরামর্শে তার হাত ভালো হয়ে যায়। পরে 'স্মার্ট অ্যাকটিভ কোণ' নামের সেই মেহেদী কোম্পানির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযোগ করেন ওই নারী। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একলাখ টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তর। জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন ওই নারী।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, গত ২৭ আগষ্ট অনন্যা আলম নামে এক নারী মানিকগঞ্জ শহরের তিপ্তি প্লাজা মার্কেটের ভাই ভাই কসমেটিকস থেকে 'স্মার্ট অ্যাকটিভ কোণ' নামের মেহেদ ক্রয় করেন। ওই মেহেদী হাতে দেওয়ার পর ওই নারীর হাত ফুলে যায় ও ফোস্কা পড়ে যায়। 


তিনি আরও জানান, ওই নারী ৩১ আগস্ট জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর স্মার্ট অ্যাকটিভ কোণ মেহেদীর বিক্রেতা, পরিবেশকসহ অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে প্রথম দফায় শুনানি গ্রহণ করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।

ভোক্তা অধিকারের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নির্দেশে স্মার্ট অ্যাকটিভ কোণ মেহেদীর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাসমিয়া কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিস লি. কে মঙ্গলবার দুপুরে শুনানির জন্য ডাকা হয় এবং শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে সম্মত হন।

আরও পড়ুন: মাসুদ আখুন্দকে প্রধান করে আফগান সরকার ঘোষণা

ওই মেহেদীর মোড়কে পণ্যের উপাদান এবং ব্যাবহারবিধি উল্লেখ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অভিযোগকারী অনন্যা আলম আরোপিত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের কাছ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রহণ করেন।


একাত্তর/আরবিএস