পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা কবলিত মানুষের

মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীর পানি ১৭ সে.মি. কমে বিপৎসীমার দুই সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি খানিকটা কমলেও টংগীবাড়ি উপজেলার হাসাইল বানারি ইউনিয়নের নদী অঞ্চলের শত শত ঘর বাড়িতে এখনো পানি। সেই সঙ্গে খাদ্য সংকট ও সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে সেখানকার হাজারো মানুষ। তবে সরকারী সাহায্য পৌঁছাতে তালিকা তৈরী করছেন জনপ্রতিনিধিরা।

গাইবান্ধার নদ-নদী গুলোর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষের। প্রধান নদ-নদী গুলোর পানি কমে বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৬৫টি চর-দ্বীপ চরের চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

গত ১২ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয় বোর্ড আর কোনো বন্যার আশংকা করছেন না। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে আট সে.মি. কমে বিপৎসীমার ৫৯ সে.মি নিচ দিয়ে, ঘাঘট নদীর পানি শহরের ব্রীজ রোড পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। 

এছাড়াও, করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে সাত সে.মি. কমে বিপৎসীমার ১৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

অপর দিকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে দুই সে.মি. বেড়ে বিপৎসীমার ৫১ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৮ সে.মি. কমেছে। পানি কমে এখনও বিপৎসীমার ৪৪ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, পদ্মার পানি গত ২৪ ঘন্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে ১৮ সে.মি কমে এখনও বিপৎসীমার ৪৪ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছরের বন্যায় জেলায় ৪৫ হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি ও ৩২৬ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার নদী তীরবর্তী ১৩ টি ইউনিয়নের ৬৭ টি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। 

জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলেও ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। নদী ভাঙনের কারণে বিভিন্ন সড়ক বাঁধে ও বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এলাকার লোকজন।   

এছাড়াও সদর উপজেলার লক্ষীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়নের নিচু এলাকার বহু সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। জেলায় চলতি বন্যায় ১০ হাজার হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়াও, তলিয়ে গেছে বেশির ভাগ রোপা আমনের ক্ষেত।