ভুল নকশায় সেতু: নৌযান চলাচল বন্ধ, হাঁট বন্ধের উপক্রম

ঢাকার দোহার পৌরসভা সংলগ এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে পদ্মা নদী থেকে আসা বটিয়া-রাধানগর খালের উপর ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিত নিচু সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সেতুর গার্ডারের নিচ পর্যন্ত উঠেছে পানি। সেতুটি নির্মাণ হলে সড়কপথ চালু হলেও যুগযুগ ধরে প্রবহমান শাখা নদীতে চলাচল করা নৌযানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীটি দিয়ে এখনই কোনো নৌযান চলাচল করতে পারছে না। ব্রিজের পিলার ও গার্ডার নিচু হওয়ার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন পর সেতুর স্বপ্ন পূরণ হলেও ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া ওরফে দেবীনগর হাঁটে আসা মালবাহী নৌযানগুলো চলাচল করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ী ও হাঁটে ফসল বিক্রি করা কৃষকের দুর্ভোগ বাড়বে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই খাল বা নদীটি দিয়ে পদ্মার সাথে উপজেলা সদরের একমাত্র বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া হাঁটের নৌ যোগাযোগ হয়ে আসছে। এটি ইছামতির সাথেও সংযুক্ত। বর্তমান নকশায়  ব্রিজটি নির্মিত হলে বর্ষা মৌসুমের প্রায় ৬ মাস এ নদী দিয়ে মালবাহী নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


দোহারের বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি বলেন, ঢাকা জেলা দক্ষিণের সব চেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার হল জয়পাড়া বাজার। এখানে প্রতি সপ্তাহে হাঁট বসে। এছাড়া ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নৌপথে গবাদী পশু, চাল, ডালসহ উৎপাদিত বিভিন্ন শষ্য এ হাঁটে বিক্রি করতে আনে। ভুল নক্সায় বা নিচু সেতু নির্মাণ করা হলে জয়পাড়া হাঁট বা বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, বটিয়ায় সেতু নির্মাণ এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী। কিন্তু ভুল নক্সায় সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। এর আগে সেতুটির উচ্চতা বাড়িয়ে সেতু নির্মাণের দাবীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিলেও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তা মানতে রাজি হননি। তিনি বলেন, পানির লেভেল বাড়লেও নৌচলাচলে কোন সমস্যা হবে না। 

তিনি আরও বলেন, এরিমধ্যে সেতুটির ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো এখানে কোন বন্যা হয়নি। সামান্য একটু বৃষ্টির ঢলে ব্রিজ ছুঁয়ে গেছে পানি। আর এতেই ট্রলারসহ কোন ধরনের নৌযান চলতে পারছে না। এমনকি সেতুর নীচ দিয়ে ডিঙি নৌকা চলাচলও সহজ না। নিচু সেতু নির্মাণ হওয়ায় এলাকার মানুষ হতাশ হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রেমের বিয়ের পর যৌতুক দাবি, না পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে

এবিষয়ে এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, অন্য সেতুগুলোর সাথে পারিপার্শ্বিকতা যাচাই করেই সেতুটি করা হয়েছে। সেতু উঁচু করতে গেলে এপ্রোচের পাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই বিবেচনা করেই আমরা নির্মাণ পরিকল্পনা করেছি। 

দোহার উপজেলা প্রকৌশলী মো. হানিফ বলেন, সেতুর দুই পাশে এপ্রোচ সড়কের জায়গা না থাকায় মূল অংশ উঁচু করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে ২/৩ মাস একটু কষ্ট হবে। তবে ছোট নৌযান চলতে পারবে। বিষয়টি আমরা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

এদিকে সেতুর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, প্রকৌশলীদের পরামর্শ ক্রমেই সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া বছরের বেশীর ভাগ সময়ই নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সেতুটি নির্মিত হলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। 

দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমি চাই সেতুটি নির্মিত হোক তবে দোহারের ঐহিত্যবাহী জয়পাড়া বাজার যাতে কোন ক্ষতির মুখে না পড়ে। সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায় কিনা এ ব্যাপারে প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


একাত্তর/আরএইচ