চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৫ দিনের জন্য বনরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন ও সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার সরবরাহ করে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, বুধবার সদর উপজেলার সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সভা করেছে উপজেলা মনিটরিং কমিটি। ওই সভায় আগামী ১৫ দিনের জন্য বনরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ডিম, কলা সরবরাহ করতে পারবে। সরবরাহ করা ডিম ও কলা অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত কমিটি যাচাই করে দেখবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছিলো ওই খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও গাক’র খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছিলো। পাশাপাশি গাককে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। তবে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনও আসেনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে। এদিকে মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে গাককে পুনরায় খাবার সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিকে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থের ঘটনায় থানায় জিডি করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হোদা।
বৃহস্পতিবার সকালে জিডিটি করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের অধীনে শিক্ষার্থীদের ডিম ও পাউরুটি খেয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সব শিক্ষার্থীই হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানান জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হাসান।