পায়ের পচনে ভুগছিলেন রনা, আশার আলো হয়ে পাশে ডেপুটি স্পিকার

দীর্ঘদিন ধরে পায়ে মারাত্মক পচন রোগে আক্রান্ত হয়ে চরম যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছিলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রনা রংদী (৬৫)। উন্নত চিকিৎসার অভাবে যখন তার জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ, ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।  

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালে রুনা রংদীকে দেখতে যান ডেপুটি স্পিকার। এসময় তিনি রুনা রংদীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস ধরে পায়ের পচনের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন রনা রংদী। কিন্তু অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না তিনি। তার অসহায়ত্বের খবর জানতে পেরে প্রথমে ময়মনসিংহে এবং পরে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্পিকার মহোদয়ের মানবিক টিমের মাধ্যমে রনা রংদীকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাকে ময়মনসিংহের চরপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে রনা রংদীর শরীরের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রনা রংদীর শরীরে দুটি ব্লক ধরা পড়ে। এর ফলে পায়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ায় রক্ত চলাচল কমে যায় এরই ফলশ্রুতিতে পায়ে পচন ধরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রনা রংদী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পায়ের এই পচনের যন্ত্রণায় আমি তিলে তিলে কষ্ট পাচ্ছিলাম। যন্ত্রণায় রাতে যখন ছটফট করতাম, তখন মনে হতো আমার পাশে দাঁড়ানোর বা দেখার মতো হয়তো আর কেউ নেই। চিকিৎসার খরচ চালানো আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আশার আলো যখন প্রায় নিভে আসছিল, ঠিক তখনই মাননীয় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন, আমি উনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

রনা আরও বলেন, তিনি শুধু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি, আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে আমার বুকে আবার বেঁচে থাকার আশা জাগিয়েছেন। তার এই মহানুভবতা ও ভালোবাসার কথা আমি কখনো ভুলব না। আজ আমার মনে হচ্ছে, ঈশ্বর হয়তো আমাকে একেবারেই একা ফেলে দেননি। তার মতো দরদি মানুষ পাশে থাকলে, আমার মতো অসহায় মানুষরা ভালো হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখতে পাবে। ঈশ্বর উনার মঙ্গল করুন।

এনিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। রনা রংদী যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আসুন, আমরা তার জন্য দোয়া করি, যেন তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। মানবতার কল্যাণে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে, ইনশাল্লাহ।