জরাজীর্ণ ভবন। খসে পড়ছে পলেস্তারা। গেলো ৫৫ বছরেও কোন সংস্কার হয়নি। এমনই এক স্কুল ভবনে অনেক কষ্টে পড়াশোনা করছে খাগড়াছড়ির গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
একই অবস্থা সদরের লক্ষীমূড়া প্রকল্প সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও। স্থানীয় শিক্ষা অফিস বলছে, এই রকম জরাজীর্ণ আরও ৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে জেলায়।
টিনের বেড়া ও চালা দিয়ে তৈরি করা ঘরটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৫ সালে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নে পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের জন্য গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তৈরি হয়।
কিন্তু, দীর্ঘ ৫৫ বছরে এই বিদ্যালয়ে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে ভবন। নেই বেঞ্চ চেয়ার, টেবিল। ফলে পাঠদান চলে অতি কষ্টে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, জরাজীর্ণ স্কুল ঘরটি জোড়াতালি দিয়ে বেশ কষ্ট করে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণি এখানে লেখাপড়া করছে ১০৬ জন শিক্ষার্থী ।
এদিকে সদর উপজেলার লক্ষীমূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা আরো নাজুক। পাকা ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বালু খসে পড়ে রড দেখা যাচ্ছে সব জায়গায়। ঝুঁকি থাকায় পাশে একটি ঘর নির্মাণ করা হলেও সেটির অবস্থাও বেহাল।
খাগড়াছড়ি সদরের ভাইবোনছড়া এলাকায় লক্ষীমূড়া প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৮৭ সালে, জাতীয়করণ হয় ২০১১ সালে।
সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, পাঠদান করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। একমাত্র পাকা ভবন যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
স্কুলটির দরজা জানালাও নেই। বর্ষায় ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে জানিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলছেন, বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে সিন্দুকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি সড়কের পাশে গোয়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে স্থাপিত হলেও দীর্ঘ ৫৫ বছরেও কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।
এই তিনটি ছাড়াও জেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এমন আরো ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে সবমিলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।
একাত্তর/এআর