ফুটবল ম্যাচ ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়-সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৫০

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে দুই ভাই মিরাজ খান (৩০) ও মিজান খান (২৭) গুরুতর আহত হন। তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিরাজ খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা কালিকাপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় মিরাজের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে আজ দুপুরে মাটিভাঙা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন বিকেলে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙা চ্যালেঞ্জ একাদশের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা চলছিল। কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে থাকলেও খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় কালিকাপুর একাদশের টিম লিডার মিরাজ খানকে প্রতিপক্ষ দলের টিম লিডার রাকিব তালুকদারের লোকজন ইট দিয়ে মুখমণ্ডলে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে মিরাজের মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি আহত হন। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মিজান খান (২৭), জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সী (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), সাকিল (২৫), রিখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫), রনিসহ আরও অনেকে।

ফুটবল খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, চাইনিজ ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি মাটিভাঙা চ্যালেঞ্জ একাদশকে দায়ী করেন। তার দাবি, তাদের কারণে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এমনকি খেলা পরিচালনা কমিটির লোকজনের গায়েও হাত তোলা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।