কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ধান কাটার মেশিন কম্বাইন্ড হারভেস্টিং খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। ধান কাটার শ্রমিক সংকট কমাতেই কৃষিখাতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক এ প্রযুক্তি।
এক একর জমির ধান কাটতে এ মেশিনে সময় লাগে মাত্র একঘণ্টা। হাওর অঞ্চলে এর ব্যবহার বাড়ানো গেলে ফসলের ক্ষতি কমবে শতভাগ।
ধান কাটা, মাড়াই আর বস্তায় ভরার তিন কাজ চলে এখন কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিনে। এক একর জমির ধান কাটতে যেখানে শ্রমিক লাগতো সাত থেকে আটজন, সেখানে এক ঘন্টাতেই পুরো জমির ধান কেটে সাবাড় করা যাচ্ছে এই মেশিনে।
আধুনিক এই মেশিনটির দাম ২৮ থেকে ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত। সরকারের তালিকাভুক্ত যেকোন কৃষক মেশিনটি কিনতে চাইলে পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার।
হাওর অঞ্চলের জন্য মেশিন প্রতি ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে ৭৫ শতাংশ। সমতল অঞ্চলের জন্য ৫০ শতাংশ। বাকী টাকা নগদ অথবা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
সময় আর খরচ কম হওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিন। এই মেশিন ব্যবহার করে কৃষকরাও দেখাচ্ছেন আশার আলো। বিশেষ করে করোনাকালে যখন শ্রমিক পাওয়া দুরুহ তখন কৃষিকদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে এই যন্ত্র।
বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসলের ক্ষতি কমাতে এখন কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরাও।
কৃষকরা বলছেন, শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে একর প্রতি খরচ হতো প্রায় ছয় হাজার টাকা। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে খরচ হচ্ছে অর্ধেক।
আরও পড়ুন: নারী ও সংখ্যালঘুদের স্থান হচ্ছে তালেবান সরকারে!
মেশিনটি কিনে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। তরুণরাই বেশি ঝুঁকছেন এই কাজে। তারা বলছেন, বিনিয়োগের টাকা উঠতে সময় লাগবে দুই মৌসুম। তবে, ব্যাংক ঋণের দাবি জানিয়েছে তারা।
সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটা ও মাড়াই করলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিনে তার পরিমাণ শূন্য। ধান উৎপাদন বাড়াতে তাই আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃষি নীতিমালা করারও তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলের ক্ষতি ও শ্রমিক সংকট কমাতেই কম্বাইন্ড মেশিন জনপ্রিয় করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে এক হাজারের বেশি কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।
একাত্তর/টিএ