পিরোজপুরে বাস, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে তিন জন ঘটনাস্থলে এবং চার জন হাসপাতালে মারা গেছে। আহত হয়ে ভর্তি আছে চার জন।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার পারেরহাট সড়কের ঝাউতলায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শংকরপাশার মো. নাঈম (২৩), মনসুরা বেগম, খায়রুল ফরাজী (২০), পিরোজপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলার স্বপন হাওলাদার (৩৫), ইন্দুরকানীর মো. হেমায়েত হাওলাদার (৩), জুনায়েদ বেগম ও আলামীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে একটি বাস ধাক্কা দেয়। এসময় অটোরিকশাটিকে বাসটি ঠেলে নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে চ্যাপ্টা করে দেয়। এসময় বিপরীত দিক থেকে একটি মোটরসাইকেল আসছিল। সেটিও এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়েছে।
পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সেলিম মিয়া জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনায় নিহত হেমায়েতের ভাই শহীদুল ইসলাম বলেন, তার ভাই সকালে পিরোজপুর শহরে যান বাজার করতে। ফেরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন শিশীর অধিকারী জানান, শুক্রবার দুপুরে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া চারজনকে খুলনায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়েছে।
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম দুর্ঘটনার সংবাদে বিকেলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে আসেন এবং নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান।