‘ফ্যাসিবাদ ফিরলে বিএনপি-জামায়াতকে মানুষ ক্ষমা করবে না’

নিজেরা নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার সুযোগে ফ্যাসিবাদ আবার বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে পটুয়াখালী জেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় রাজপথে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, এ ঐক্যের বিরুদ্ধে কেও ভূমিকা পালন করলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বন্ধ করুন।

সংবিধান সংস্কার করে ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গায় ইসলামের প্রতি অবিচল আস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। তাদের আবেগ ও চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে হবে।

খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বাংলাদেশ রক্ষা ও বিদেশি আধিপত্যবাদ রুখে দিতে, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রুখে দিতে রাজপথে গড়ে ওঠা ঐক্য দীর্ঘদিন সমুন্নত রাখতে হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত উপমহাদেশেও একশ’ বছর খুঁজে শেখ হাসিনার মতো এতো ভীরু নেতা পাওয়া যাবে না। তিনি শুধু দেশের না, আওয়ামী লীগেরও বারোটা বাজিয়ে গেছে। এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন যে, এদেশে আর কেউ আওয়ামী লীগের নাম নিয়ে মাথা উঁচু করে রাজনীতি করতে পারবে না।

তিনি বলেন, হাসিনা দল ও নেতাকর্মীদের ভালোবাসলে এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো কারাবরণ করতো, তাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন না। শেখ হাসিনা চেয়েছিল বাংলাদেশকে বিভক্ত করতে। তার রাজনীতির দর্শন ছিলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বলে বিভাজনের রাজনীতি। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের রাজাকারের ট্যাগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। হাসিনার পক্ষে থাকলে মুক্তিযোদ্ধা আর বিপক্ষে গেলেই রাজাকার।

ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ থেকে বিতাড়িত হয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশে ছিলো কৃতদাসী শেখ হাসিনা। তারা ভেবেছিলো অনন্তকাল বাংলাদেশ লুটপাট করবে। সেই কৃতদাসীকে বাংলার মানুষ তার মুনিবের ঘরে পাঠিয়েছে। 

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও  শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া গণহত্যার বিচার দাবি জানান বক্তারা।