পটুয়াখালীতে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর আত্মসমর্পণ

পটুয়াখালীতে স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহে গলাকেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন এক স্বামী। তার ভাষ্য, হত্যার পর ‘বিবেকের তাড়নায়’ তিনি ধরা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জেলার বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার (১ আগস্ট) স্বামী ভোরে থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।

নিহতের নাম সালমা আক্তার (৩২)। তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের রুস্তম আলীর মেয়ে। সালমা বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।

ঘাতক স্বামীর নাম সরোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের বাসিন্দা।

তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে পরকীয়া নিয়ে কলহের জেরে ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সালমা। পরে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে তদের শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর পরে বিবেকের তাড়নায় শুক্রবার ভোরে থানায় হাজির হয়ে সবকিছু স্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই দম্পতি চন্দ্রপাড়া গ্রামে মো. জসিম উদ্দিন বেপারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের কলহ চলছিলো।  

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, সরোয়ার হোসেন থানায় এসে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করলে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। শিশুটিকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার জানিয়েছেন, স্ত্রীর পরকীয়া সন্দেহ থেকে তিনি এই হত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।