ভ্রমণের আনন্দ এক নিমেষেই রূপ নিল সীমাহীন শোকে। বরগুনার পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলো রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর ভাসমান মরদেহ।
সোমবার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া এলাকা সংলগ্ন পায়রা নদী থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত জুঁই ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা জনি চৌধুরী ও তাসলিমা দম্পতির কন্যা এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে বরগুনায় এক দূরসম্পর্কের স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল জুঁই। ভ্রমণের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্বজনদের সঙ্গে লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে সে। তবে সাঁতার না জানা জুঁই জোয়ারের তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে চোখের পলকে তলিয়ে যায়।
কিশোরী নিখোঁজের খবর পেয়ে বরগুনা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের একাধিক টিম দ্রুত যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বিবেচনায় পটুয়াখালী থেকে বিশেষ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও এই অভিযানে যুক্ত হয়। তবে নদীর প্রবল স্রোতে প্রথম দিন ও রাতে জুঁইয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজের দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে ছোনবুনিয়া এলাকার নদীতে জুঁইয়ের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। ঢাকা থেকে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জুঁইয়ের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বইছে শোকের মাতম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাচনাইন পারভেজ জানান, নিখোঁজের পর থেকেই যৌথ বাহিনীর উদ্ধার তৎপরতা চলছিল। অবশেষে ৩৩ ঘণ্টা পর ছোনবুনিয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ জুঁইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।