পূজার ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া হলো না বাবা-মেয়ের

শারদীয় পূজার ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটাতে রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। কিন্তু ঘাতক ট্রাকের সঙ্গে বাসের এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের পর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এই পরিবারের সব আনন্দ মুহূর্তেই নিভে গিয়ে নেমে এসেছে ঘন বিষাদের ছায়া।

নাটোরের বনপাড়ায় ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা শহিদুল ইসলাম এবং তাঁর আট বছরের শিশু কন্যা তাসমিয়া বেগম। অন্যদিকে এই একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সঙ্গে লড়ছেন নিহত শহিদুলের স্ত্রী ও ১২ বছরের এক পুত্রসন্তান।

নিহত শহিদুল ইসলাম (৪৮) মাগুরায় অবস্থিত ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর আট বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগমও পিতার সঙ্গে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী শাখা পূবালী ব্যাংকে সেকেন্ড অফিসার পদে কর্মরত, এবং তাঁদের ১২ বছর বয়সী ছেলে লাবিব।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূজার দীর্ঘ ছুটিতে রাজশাহীতে স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য রবিবার বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে সন্তানদের নিয়ে বাসে ওঠেন রুবিনা আক্তার। অন্যদিকে চাকরির সুবাদে মাগুরায় অবস্থান করায় সেখান থেকে আলাদা একটি বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে বনপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও একটি বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে ১২ জন যাত্রী প্রাণ হারান, যাঁর মধ্যে এই বাবা ও মেয়েও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

দুর্ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও ছোট মেয়ে তাসমিয়ার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রুবিনা আক্তার ও ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পটুয়াখালী থেকে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানরা এবং মাগুরা থেকে তাঁর ভাই বাসে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বনপাড়ায় গিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাই ও নিষ্পাপ ভাতিজিটা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাল।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, শহিদুল চাকরির কারণে বাইরে থাকলেও ছুটি পেলেই পরিবারের কাছে ছুটে আসতেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় হাসিখুশি পরিবারটি চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে গেল। বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।