রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য, ‘হত্যা’ দাবি পরিবারের

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার একে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করলেও তার স্বামীর দাবি করেছেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত ফারহানা ইয়াসমিন শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে। তার স্বামী রাসেল বয়াতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিলো। এর আগের সংসারে শীলার দুটি সন্তান রয়েছে।

নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল দাবি করেন, শীলা আত্মহত্যা করতে পারেন না, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রাতেও তিনি পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি ছিলেন। তার অভিযোগ, শীলার জমিজমা বিক্রির জন্য চাপ দিতেন এবং টাকা চাইতেন স্বামী রাসেল। গলায় টিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। আত্মহত্যার সময় মানুষ যেভাবে বাঁচার চেষ্টা করে, মরদেহে সেই ধরনের কোনো আলামত তারা দেখতে পাননি। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার দাবি করেছেন তিনি।

নিহতের আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল ও চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সজল বলেন, পরিবারের কাউকে বা আশপাশের লোকজনকে না জানিয়ে রাসেল নিজেই কেন দ্রুত মরদেহ নামিয়ে ফেললেন, তা নিয়ে তাদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের মেয়ের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, শীলা ও রাসেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ ও মারধর হতো। মাঝেমধ্যে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলে শীলা বাইরে কান্নাকাটি করতেন। পরে রাসেল বের হলে লাবিবা গিয়ে মাকে ঘরে তুলতেন।

এদিকে পরিবারের সব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামী রাসেল বয়াতী বলেন, এক বছরের সংসারে তাদের মধ্যে বনিবনা ভালোই ছিলো। তবে বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সামান্য মনমালিন্য হওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কিছুটা কম হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও একসঙ্গে খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে শীলা নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে টের পান।

রাসেল আরও জানান, সকাল পৌনে আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অন্য একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এরপর পাশের বাড়ির এক দম্পতিকে ডেকে আনলেও তারা কাছে যাননি। পরে চাচাতো ভাই সোহানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই ঝুলন্ত অবস্থা থেকে স্ত্রীকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। কী কারণে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের মেয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিলো এবং শীলা সারাদিন স্বামীর সঙ্গে কথা বলেননি। অন্যদিকে স্বামীর দাবি স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও সন্দেহ দূর করতেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদি হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।