পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জব্দ করা মাছ এতিমখানা ও মাদ্রাসায় না দিয়ে বাড়িতে নিয়ে ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রতনদি তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে নদী থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে জব্দ করা মাছগুলো নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মাছ বিতরণের পর গোপন খবরে উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে, বিতরণ করা মাছের দায়িত্ব নেওয়া প্রতিনিধিদের কেউ কেউ তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এমন সংবাদ পেয়ে রাত ৯টার দিকে ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে সরেজমিনে অভিযানে যান।
অভিযানকালে তারা ‘মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে মাদ্রাসাটি আবাসিক নয় এবং বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া মাছ তিনি প্রতিষ্ঠানে না রেখে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৭) আরও জানান, তিনি ও আবুল হোসেন (৫৫) নামের অপর একজন মিলে সরকারিভাবে দেওয়া ইলিশ মাছ ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছেন। অনিয়ম ও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গলাচিপার ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, সরকারি সম্পদ হোক কিংবা জনকল্যাণে নিবেদিত কোনো সহায়তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো উদ্যোগের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
