বিয়ের মাত্র ১৬-১৭ দিনের মাথায় বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাসুর ও চাচাশ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনার ১১ দিন পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপে মামলা রেকর্ড করা হলেও, এর আগে বিচার চাইতে গিয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে সাত বছরের জেলের ভয় দেখানোসহ আপত্তিকর আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেছে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার ওই নববধূ গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভনে পড়ে সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদার (৩৮) সঙ্গে বাজারে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান ও প্রতিবেশী চাচাশ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) মিলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর বিচার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। লিগ্যাল এইড অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন সেসময় মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় গেলে ওসি তাকে বলেন, আপনার কোনো প্রমাণ নেই। ...আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই সাত বছরের সাজা হবে। এছাড়া ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ,ওসি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও মশকরা করেছেন। ওই নারী জানান, পুলিশের কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়ার পর তিনি বিচার পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামীসহ পরিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন অসহায় নারী বিচারের আশায় থানায় গিয়ে সুরক্ষা না পেয়ে উল্টো ভয়ভীতি ও অপমানের শিকার হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, গত দু-এক দিন আগে ভুক্তভোগী তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে তারা ধর্ষণের কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে চলে যান। এতে আমাকে দায়ি করে লাভ নেই।
তবে এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওসির মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে থাকেন এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।