হামলার আশঙ্কা জানিয়ে আগে থেকেই পুলিশকে অবহিত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পটুয়াখালী পৌর শহরের সামনে ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি ও পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য রাজীব দেবনাথ এবং দৈনিক আজকের খবরের সাংবাদিক ইয়াহিয়া শাকুর।
আহত সাংবাদিক রাজীব দেবনাথ অভিযোগ করেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে শহরের সবুজবাগ এলাকার হাসান মোল্লা ওরফে ‘ঘাউরা হাসান’ ও তার সহযোগীরা ধারালো রামদা, চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় রাজীবের মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। অন্যদিকে ইয়াহিয়া শাকুরের ডান হাতের কবজিতে রামদার কোপে গুরুতর জখম হয়।
রাজীব দেবনাথ আরও দাবি করেন, হামলার আশঙ্কার কথা বুঝতে পেরে তিনি আগেই মুঠোফোনে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে হামলাকারীরা তাদের আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
এর আগেও সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত হাসান মোল্লা তার ওপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে জানান রাজীব। ওই ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। আগের সেই ঘটনার জেরে আবারও এই হামলার শিকার হতে হলো বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া হামলার আগে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পটুয়াখালী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, আহত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।