সূর্যাস্তের পরও গলাচিপা মৎস্য অফিসে উড়ছিলো জাতীয় পতাকা

সরকারি বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা নামানোর নিয়ম থাকলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অফিস তালাবদ্ধ ও চারপাশ অন্ধকার থাকলেও ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলিত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রধান ফটক ও কার্যালয় পুরোপুরি তালাবদ্ধ। ভেতরের কিংবা আশপাশের চত্বরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিলেন না, অথচ ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উড়ছিলো। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মৎস্য অফিসের প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী বিপ্লব সেখানে এসে পতাকাটি নামিয়ে ফেলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর মূল দায়িত্ব অফিস সহায়ক শোভন বিশ্বাসের। তবে তিনি ছুটিতে থাকায় সকালে কে পতাকা উত্তোলন করেছেন, তা তার জানা ছিলো না। মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়ে পতাকা নামানোর ব্যবস্থা করেন। অফিস সহায়ক শোভন বিশ্বাস জানান, তার অনুপস্থিতিতে পতাকা নামানোর দায়িত্ব ছিলো সুধাংশু মিস্ত্রির ওপর। অন্যদিকে সুধাংশু মিস্ত্রি জানান, তিনি বর্তমানে বরিশালে অবস্থান করছেন এবং সোহেল নামের অন্য একজনের পতাকা নামানোর কথা ছিলো। সোহেল কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ায় এবং মৎস্য কর্মকর্তাও কর্মস্থল ত্যাগ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। অফিস সহায়ক শোভন ছুটিতে থাকায় এবং কর্মচারী সোহেল কিছু না জানিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়ে পতাকা নামানোর ব্যবস্থা করেছি।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু জর মো. ইজাজুল হক জানান, বিষয়টি জানার পর মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, যার পতাকা নামানোর দায়িত্ব ছিলো, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এ কারণে এমনটি ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।