ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী প্রণয় ভার্মা বলেছেন, মানবতার সহজাত মঙ্গলের প্রতি গান্ধীজীর প্রত্যয় ও পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে শান্তি ও অহিংসার প্রতি তার অটল বিশ্বাস ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার মতোই আজও প্রাসঙ্গিক।
সোমবার মহাত্মা গান্ধীর ১৫৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রণয় ভার্মা নোয়াখালীতে ঐতিহাসিক গান্ধী আশ্রম পরিদর্শন করেন এবং ভারতের জাতির পিতার প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত ‘গান্ধিজিস কোয়েস্ট ফর পিস অ্যান্ড হারমনি ইন নোয়াখালী অ্যান্ড ইটস রিলেভ্যান্স ইন দ্য কনটেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড’ -শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন। খবর বিজ্ঞপ্তির।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে গান্ধীজীর ঐতিহাসিক সফর প্রবল প্রতিবন্ধকতার পরিস্থিতিতেও সংলাপ, সহানুভূতি ও বোঝাপড়ার অসাধারণ পরাক্রমের উদাহরণ সৃষ্টি করে। অহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নীতির প্রতি তার অদম্য নিবেদন শুধু নোয়াখালীকে সান্ত্বনাই দেয়নি, মানবতার বিবেকের ওপরও একটি অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছে।
হাই কমিশনার উল্লেখ করেন, প্রতি বছর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উদযাপন শান্তি, অহিংসা, সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার মূল্যবোধের সর্বজনীনতাকে পুনঃনিশ্চিত করে এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা, যেমন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণই সহিংসতা ন্যায্যতা প্রদান করতে পারে না এবং মানবতাবাদ সর্বদা জয়ী হবে -ভারতের এই দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বাসের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হলো আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস।
হাই কমিশনার ভার্মা গান্ধী আশ্রমে ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে গান্ধীজীর সফরের সাথে সম্পর্কিত স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনকারী জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টকে ভারতে গান্ধীবাদী অধ্যয়নের জন্য নিবেদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিতভাবে সহযোগিতা ও আদান-প্রদান চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব) জীবন কানায় দাসের সভাপতিত্বে সোনাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইসমাইল হোসেন ও গান্ধী আশ্রমের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহা নব কুমারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন এইচ এম ইব্রাহিম এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন হাবিব, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান সহেল, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. ফজলে এলাহী, সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন প্রমুখ।
তিনদিনের আন্তর্জাতিক যুব পিস ক্যাম্পে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি দেশের ৩৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।