মহাত্মা গান্ধীর ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালীতে গান্ধী আশ্রম পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) তিনি আশ্রম পরিদর্শন করে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে হাই কমিশনার গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সমসাময়িক বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ট্রাস্টের সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধির পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা এই মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
এসময় হাই কমিশনার ভার্মা বলেন, গান্ধীজির সত্য, মানবতাবাদ ও অহিংসার দর্শনের পথ আজ আমাদের বৈশ্বিক চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার পথ দেখাচ্ছে।

প্রণয় প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে গান্ধীজির বিশ্বাস, দরিদ্রতমদের ক্ষমতায়নের লক্ষে তার দৃঢ় সংকল্প এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ বার্তার ওপর জোর দেন। যা জি২০ প্রেসিডেন্সির জন্য ভারত কর্তৃক গৃহীত ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’ নীতিকে অনুপ্রাণিত করে।
প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ শাসনামলের শেষের দিকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানের মতো নোয়াখালীতেও হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। সেই দুঃসময়ে শান্তি মিশন নিয়ে নোয়াখালী ছুটে আসেন মহাত্মা গান্ধী। ১৯৪৬ সালের সাত নভেম্বর থেকে ১৯৪৭ সালের দুই মার্চ পর্যন্ত নোয়াখালী অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব স্থাপনসহ সেবামূলক বিভিন্ন কাজে হাত দেন। এভাবে ১৯৪৭ সালের সালের ২৯ জানুয়ারি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ গ্রামে গান্ধীর আগমন ঘটে।

জয়াগের তৎকালীন জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ নিজ জমিদারির সব সম্পত্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য গান্ধীকে দিয়ে দেন। এরপর জমিদার বাড়িতে গড়ে ওঠে গান্ধী শান্তি ক্যাম্প। বাড়ির পাশে একটি কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন গান্ধী। যা পরে গান্ধী মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে জাতীয়করণ করা হয়। যেখানে কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি গান্ধীর সাতটি অহিংস নীতি-নীতিহীন রাজনীতি, নৈতিকতাহীন বাণিজ্য,পরিশ্রমহীন সম্পদ, চরিত্রহীন শিক্ষা, মানবতাহীন বিজ্ঞান, বিবেকবর্জিত আনন্দ ও ত্যাগহীন অর্চনা জীবন দর্শন সম্পর্কে আগামী প্রজন্মদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ‘গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট’ অর্ডিন্যান্স গঠনের মধ্যদিয়ে মানুষের মধ্যে গান্ধীর জীবন দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ শুরু করা হয়।
একাত্তর/এসি
