ফেনীতে স্কচটেপ দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধ অবস্থায় সাত বছরের এক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় আহত অবস্থায় তার ১২ বছর বয়সী বড় বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে পুলিশকে জানিয়েছে, দুই যুবক হেলমেট পরে তাদের ঘরে ঢুকে এ নৃশংসতা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলার পরশুরাম উপজেলার বাঁশপদুয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম উম্মে সালমা লামিয়া (৭)। আহত শিশুটির নাম ফাতেমা আক্তার নিহা (১২)। তারা ওই গ্রামের নুরুন্নবীর মেয়ে।
আহত নিহার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চার বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় নুরুন্নবীর। তিনি দ্বিতীয় বিয়ের পর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার করছিলেন।
নিহা জানায়, বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে মাথায় হেলমেট পড়া দুই যুবক দুপুরে তাদের ঘরে ঢোকে। এসময় বাবা ও সৎ মা রেহানা আক্তার ফেনীতে ছিলেন না। তারা ঘরে ঢুকেই লামিয়ার হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এসময় নিহার সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং কৌশলে ঘর বের হয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে প্রতিবেশীদের ঘটনা জানালে তারা এসে দেখেন হাত-পা বাঁধা লামিয়ার মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। এর আগে পালিয়ে যায় খুনিরা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নুরুন্নবী বাঁশপদুয়ার পশ্চিম পাড়া এয়ার আহাম্মদের ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে নিয়ে থাকতেন। তাদের সঙ্গে প্রথম সংসারের মেয়ে নিহা ও লামিয়াও থাকতো।
নুরুন্নবীর সাবেক স্ত্রী আয়েশা আক্তারের অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার মেয়ে লামিয়াকে হত্যা করেছে। সৎ মা শিশুদের প্রায়ই মারধর করতো।
এ ব্যাপারে পরশুরাম থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাত হোসেন খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনা তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে।