কুমিল্লায় রাসেল নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হত্যার ঘটনায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ওই ঘটনায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এক নারীর সঙ্গে দুই জনের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন রাসেল।
রোববার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন, চট্টগ্রাম উপজেলা শুভপুর ইউনিয়নের শুভপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিন, (২৩) ও নাঙ্গলকোটের গন্দাচি গ্রামের আলা মিয়ার ছেলে অলি উল্লাহ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় গিয়াস উপস্থিত থাকলেও অন্যজন পলাতক ছিলেন।
২০১৭ সালের ১৮ জুন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া রাস্তার মাথায় মহাসড়কের পাশ থেকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অ্যাড. মুজিবুর রহমান বাহার জানান, ২০১৭ সালের ১৮ জুন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাসেলকে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ৫০ হাজার টাকা দিলেও ছেলেকে না পেয়ে অপহরণ মামলা করেন বাবা। পরে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, পুলিশ তদন্ত করে শুভপুর এলাকার একরামুল হক পাগলা, গিয়াস উদ্দিন, শাহিন, নাঙ্গলকোটের অলি উল্লাহ ও আসমা আক্তার সাথীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে একরামুল হক পাগলার মৃত্যু হলে তাকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়। এছাড়া সাথীর মামলা শিশু আদালতে চলমান রয়েছে। শাহিনকে অব্যাহতি দিলেও বাকি দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, সম্পর্কে ভাবি আসমা আক্তার সাথীর সঙ্গে রাসেলের পরকীয়া ছিল। এদিকে গিয়াসের সঙ্গে ছিল সাথীর পরকীয়া। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে গিয়াস উদ্দিন একরামুল হক, অলিউল্লাহকে নিয়ে রাসলকে হত্যা করে লাশ চিওড়া রাস্তার মাথায় ফেলে দেয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আরেক কৌশলী অ্যাড. বাহার বলেন, আমরা বিশ্বাস করি উচ্চ আদালতও এই রায় বহাল রাখবে।