কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ প্রতিপালনের কথা বলা হয়েছে।
৫ জুন চতুর্থ ধাপে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। এখন পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত চান্দিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে না।
এর আগে ৬ মে রাত ১০টায় নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ৮ মে নাঙ্গলকোটের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো।
প্রথম ধাপে নাঙ্গলকোট ও চতুর্থ ধাপে চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হল।
নির্বাচন স্থগিত সম্পর্কিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রিট পিটিশন নং ৫৩২০/২০২৪-এর আলোকে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ প্রতিপালনের সুবিধার্থে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপে ৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সব পদের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ বিষয়টি উল্লেখ করে সোমবার একটি গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ।
গত ১২ মে দুপুরে চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বাছাইয়ের দিন যাচাইয়ের সময় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী শাহ সেলিম প্রধান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকা ও হাইকোর্টের রিটের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কথা জানিয়ে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গত ৭ মে তিনি উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ৮ মে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বেঞ্চ সেলিম প্রধানের মনোনয়ন গ্রহণ ও নিয়মানুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের জন্য নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় দেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রিট পিটিশনের জবাব দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।
চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাহ্ সেলিম প্রধানসহ চেয়ারম্যান পদে ৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ে সেলিম প্রধানের মনোনয়ন সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে অপর ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ।
কুমিল্লার ১৭ উপজেলার মধ্যে প্রথম ধাপে তিনটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে তিনটি উপজেলায় (একটি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবাই জয়ী) ২১ মে ভোট হবে।
তৃতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় ২৯ মে, চতুর্থ ধাপে দুটি উপজেলায় ৫ জুন ভোট হবে। মোট ১২টি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। দুটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। অপর তিনটি উপজেলায় পরে ভোট হবে। সেগুলোর তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।