মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌযান চলাচল ৩৩ দিন পর আবার শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে টেকনাফ ঘাট থেকে দুটি ট্রলার সেন্টমার্টিনে যায়। আর সেখান থেকে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চারটি ট্রলার ও কয়েকটি স্পিডবোট টেকনাফে ভেড়ে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ ৩৩ দিন যান চলাচল আবার শুরু হওয়ায় এক ধরনের ‘অবরুদ্ধ’ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী জানান, সকালে যাত্রী নিয়ে গোলারচর থেকে মালবাহী ট্রলার সেন্টমার্টিন গেছে, আর সেন্টমার্টিন থেকে যাত্রী নিয়েও কয়েকটি স্পিডবোট।
বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে দেশটির সরকারি বাহিনীগুলোর। এর রেশ এসে পড়ছে মিয়ানমারের সীমান্তঘেষা বাংলাদেশ অংশেও।
গত পহেলা জুন বিকেলে টেকনাফ থেকে পণ্য ও যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের রওনা হওয়া এক ট্রলারকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গুলি করা হয়।
এরপর পাঁচ জুন সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রলারকে লক্ষ্য করে একই পয়েন্টে ফের গুলি করা হয়। আট জুন একই জায়গায় আরও এক ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
আবার ১১ জুন ফের একটি স্পিডবোটকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। আর প্রতিটি ঘটনাই ঘটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলসীমায়। এরপর থেকেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এতে জরুরি আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে দ্বীপ ইউনিয়নটিতে দেখা দেয় খাদ্য সংকট। ১২ জুন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করে যাত্রীদের আসা-যাওয়া ও পণ্য নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর পরেরদিন ১৩ জুন থেকে টেকনাফের সাবরাং মুন্ডার ডেইল উপকূল ব্যবহার করে শুরু হয় যাত্রীদের আসা-যাওয়া। ১৪ জুন কক্সবাজার শহর থেকে দ্বীপে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজ। আর বিকল্প পথ হিসেবে শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে সীমিত পরিসরে কিছু নৌযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে ২২ জুনের পর থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।