কুমিল্লায় গোমতী নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুড়িচংয়ে ঘর-বাড়ি থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। এদিকে, ডাকাতিয়ার পানি বাড়ায় মনোহরগঞ্জে বেড়েছে বন্যার পানি।
উজানের ঢলের পানি কমলেও জলাঞ্চল নামে খ্যাত মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বানের পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যেই ১১টি ইউনিয়নের ২৩৬টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। উজানের পানি, কাড়কি নদী আর ফেনীর মুহুরি নদীর পানি নেমে ডাকাতিয়া নদীর পানি বাড়ছে। ডাকাতিয়া নদীর এমন ডাকাত রূপ ধারণে মনোহরগঞ্জে লাশ দাফনের মতো শুকনো মাটি নেই কোথাও।
উপজেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় বন্যার্ত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও আর জায়গা নেই। আবার হাজারো পরিবার নিজেদের ঘরবাড়িতেই রয়ে গেছেন নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষার জন্য। কেউ উঁচু মাচা করে, কেউ আবার চকি বা খাটের উপর দিনাতিপাত করছেন। গ্রামের সব রাস্তাই পানির নিচে। একমাত্র নৌকাই এখানকার মানুষের বাহন।
এদিকে, কুমিল্লায় গোমতী নদীর পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই। বাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দিয়ে এখনও লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ফলে বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগের কমতি নেই। বন্যা কবলিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এখনো ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে, তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি থেকে এখনও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা।
সরকারি হিসেবে, জেলার ১৪ উপজেলার ১০ লাখ ৬১ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবেদ আলী জানান, কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলাই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এসব উপজেলার ১২৫টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৬১ হাজার মানুষ বন্যার্ত। পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোট ৭২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, এখনই বাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ মেরামত সম্ভব নয়।
এদিকে, বুড়িচংয়ের বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতীর বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে এখনও হু হু করে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। বাঁধের ভাঙ্গা অংশের দৈর্ঘ্য ৫০০ ফিট ছাড়িয়েছে। বাঁধের ভাঙ্গনের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশের ফলে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই অতি দ্রুত বাঁধ মেরামত করে পানি প্রবেশ বন্ধের দাবি এই এলাকার মানুষের।