দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা যাবে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে হ্রদের জাল ফেলা শুরু করবেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে শনিবার দিনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ চার মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হওয়ায় রাঙ্গামাটির ব্যবসায়ীদের কাজের চাপ বেড়েছে।
প্রাকৃতিক প্রজনন ও কার্প জাতীয় মাছের বংশবিস্তারের লক্ষ্যে প্রতি বছর তিন মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। এ বছর ২৪ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস বন্ধ থাকার পর হ্রদে পর্যাপ্ত পানির অভাবে মাছের বংশবিস্তার সুষ্ঠুভাবে না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ শিকার শুরু হওয়ায় রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটির বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মাঝে কর্ম তৎপরতা ও প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরবে। খুলে দেয়া হবে শহরের সকল বরফ কল।
এ বিষয়ে কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নবী হোসেন জানান, দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় পর কাজে ফিরছেন আমাদের জেলে ও ব্যবসায়ীরা। সবার মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, এবছর কাপ্তাই হ্রদের মাছের গুণগতমান ভালো হবে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় হ্রদে সকল ধরনের মাছের আকার ছোট ছিলো এবং প্রথম এক মাসের মধ্যে সব মাছ আহরণ শেষ হয়ে যেতো। এবার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি হওয়ায় পুরো বছর জুড়ে মাছ আহরণ করতে সক্ষম হবেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা হ্রদে জাল ফেলার জন্য প্রস্তুত। হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় আশা করছি এবার বছরব্যাপী প্রত্যাশিত পরিমাণে মাছ আহরণ সম্ভব হবে।
এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম এই হ্রদে ৬৬ দেশিও প্রজাতির ও ৬টি বহিরাগত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। আর হ্রদের মিঠা পানির মাছের চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
১৯৬০ সালে জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি করা হয় ২৫৬ বর্গমাইল আয়তনের কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। পরবর্তীতে এই হ্রদ হয়ে ওঠে মিঠাপানির মাছের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কৃত্রিম হ্রদে উৎপাদিত দেশীয় রুই প্রজাতির মাছের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হয়।