দেশব্যাপী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক, মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ ও আটকদের মুক্তির দাবিতে প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করেছেন রাঙ্গামাটির কর্মরত সাংবাদিকরা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে ঘণ্টা ব্যাপী এই কর্মবিরতি পালন করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় বলেছেন সাংবাদিকদের নামে মামলা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তারা বলেন, আমরা ধারণা করেছিলাম, অন্তর্বতী সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু দেখছি, উল্টো সাংবাদিকদের আরও বেশি কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তাই খাগড়াছড়ির সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক অনিক চৌধুরীসহ সারাদেশে আটক ও গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।
ঘণ্টা ব্যাপী কর্মবিরতি পালন শেষে সাংবাদিকদের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও আটকদের মুক্তির দাবিতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
সাংবাদিক মনসুর আহম্মেদের সঞ্চালনায় ও রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মবিরতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি একেএম মকছুদ আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, সাধারন সম্পাদক আনোয়ার আল হক, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম শামসুল আলম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ, সাংবাদিক হিমেল চাকমা, সৈকত রঞ্জন চৌধুরী, ফাতেমা জান্নাত মুমু প্রমুখ।
কর্মবিরতি অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৯ অক্টোবর রাজশাহী বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, যারা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা নিরীহ লোকের বিরুদ্ধে মামলা করছে কিংবা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত অ্যাকশন নেওয়া হবে।