কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দোয়েল চত্বরের সামনে এসব দাবি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের জেলা ডেপুটি কমান্ডার শৈলবতী নন্দন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাবেক কমান্ডার প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, সাবেক কমান্ডার আবুল হাসেমসহ অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধার।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের (৭৮) গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে রাতে এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
আবদুল হাই ঘটনাস্থলের পাশের গ্রাম লুদিয়ারার বাসিন্দা। তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ ছাড়া একই সংগঠনের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সহসভাপতি। তার পরিবারের অভিযোগ, লাঞ্ছনাকারীরা স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। আবদুল হাইকে এলাকাছাড়া করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তাদের ভাষ্য, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের কেউই জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী নন।
পরে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইনের সই করা এক বিবৃতিতে জামায়াতের দুই সমর্থককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। তারা হলেন- মু. আবুল হাশেম ও মু. অহিদুর রহমান। আবুল হাশেম চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা গ্রামের প্রয়াত আবদুল বারেকের ছেলে এবং অহিদুর একই গ্রামের প্রয়াত শফিকুর রহমানের ছেলে।
ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার সময় ধারণ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জুতার মালা পরানোর পর ওই দুজন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার দুই হাত ধরে টানাহেঁচড়া করছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে জামায়াত জানায়, চৌদ্দগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি দুঃখজনক ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জামায়াতে ইসলামী শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধা নয়, দেশের সাধারণ কোনো নাগরিককেও হেনস্তা করা সমর্থন করে না। এই দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।