দ্রুত দৃশ্যমান হবে মুছাপুর রেগুলেটর, একনেকে উঠছে প্রকল্প: পানিসম্পদ মন্ত্রী

মুছাপুর রেগুলেটরের পুনঃনির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং অচিরেই তা দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি পরিদর্শন করেন তিনি।

মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণ প্রকল্প বিষয়ে কথা বলেছি। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই রেগুলেটরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত বলেই আমাকে পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। প্রকল্পটি আগামী একনেক সভায় উত্থাপন করা হবে। আশা করি, অতি দ্রুত কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুছাপুর রেগুলেটর শুধু স্থানীয় নয়, বরং বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০০৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টি চিহ্নিত করেছিলেন বলেই ২০০৫ সালে তিনি নিজে এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি পাসের পাশাপাশি আপাতত নদী ভাঙন রোধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা অংশে ছোট ফেনী নদীতে প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

সভায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম মোশারেফ হোসেন এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে কোম্পানীগঞ্জসহ ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়ায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ভাঙন প্রতিরোধে সরকার ওই স্থানে ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক রেগুলেটর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ২০০৫ সালে প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আগের রেগুলেটরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্থানীয়দের আশা, নতুন এই রেগুলেটর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।