লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই রেললাইন চালু হবে। এর ফলে চন্দ্রগঞ্জসহ পুরো লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষ যাতায়াতের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন এবং বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। একটি আধুনিক, দক্ষ ও স্মার্ট প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের স্বাস্থ্য শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জেলার শিক্ষার্থীদের আর দূরে যেতে হবে না, তারা এখন নিজ জেলাতেই মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনটি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহবান জানান।
এর আগে দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিত নতুন চার তলা একাডেমিক ভবনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে তিনি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ী, বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং চন্দ্রগঞ্জ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাচ্চু মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
