কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ যাত্রী নিহত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ১২ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও ছয়জন নারী রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার অজয় ভৌমিক নিহতের সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । 

জেলা প্রশাসন থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে । লাইন ক্লিয়ার করে  ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।

রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত তিনটার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন। ধাক্কার তীব্রতা এতোই বেশি ছিলো যে, ট্রেনটি বাসটিকে দুমড়েমুচড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১২-তে পৌঁছায়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাজনিত কারণে দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলায় গেটম্যান মেহেদী হাসান ও মো. হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল সাতটা ১৮ মিনিটে কুমিল্লা স্টেশন থেকে দুটি ডাউন ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম অভিমুখে ছেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মোতায়েন আছেন